কোভিড 19 ও ব্যাঙ্কিং পরিষেবা
-----------------------------------------------
মুর্শিদাবাদ জেলা কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাঙ্ক সহ মুর্শিদাবাদের সমস্ত ব্যাঙ্কের প্রত্যন্ত শাখাগুলিতে গ্রাহকদের প্রচন্ড ভীড় শুরু হয়েছে।গোটা দেশের সব ব্যাঙ্কেও হয়ত একই পরিস্থিতি।লকডাউনের সমস্ত নিয়ম কানুন শিকেয়।সমস্ত দপ্তরের মতো ব্যাঙ্কেও প্রয়োজনের থেকে অনেক কম সংখ্যক কর্মচারী দিয়ে কাজ চালাতে হয়।এই অস্বাভাবিক ভীড় নিয়ন্ত্রনের ক্ষমতা গ্রামীন শাখা গুলির কয়েকজন কর্মচারীর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না।পুলিসকে ফোন করা হলে তারা মানুষকে ঘরে পাঠাবার কাজে বেশি ব্যস্ত হয়ে থাকছে।
প্রথম বার কেন্দ্রীয় ভাবে লকডাউন ঘোষনা হওয়ার পর থেকে ব্যাঙ্কিং সেক্টর নিয়ে বেশ ছেলেখেলা হল।প্রথমে বলা হল 10.00-2.00 PM ব্যাঙ্ক খোলা থাকবে ,কর্মচরীরা একদিন অন্তর একদিন কাজে আসবে,পাঁচ কিমির মধ্যে একাধিক শাখা থাকলে একটিই শাখা খুলবে।তারপরেই বলা হল, 10.00-2.00 PM পর্যন্ত একদিন অন্তর একদিন শাখা গুলি খোলা থাকবে।তারপর লকডাইনের দিন দশেক কেটে গেলো ,অবস্হার কোনো উন্নতি হয় নি,অথচ সমস্ত বিধিনিষেধ তুলে নিয়ে বলা হল - প্রতিদিন (নির্দিষ্ট ছুটির দিন বাদে) সব ব্যাঙ্কের সমস্ত শাখা 10. 00-5.00 টা খোলা থাকবে। বেকুব কর্মচারীরা হয়ত ভাগ্যবান এই জন্য যে ছুটির দিনেও ব্যাঙ্ক খুলে রাখার কথা বলা হয়নি!
সব ধরনের গণ পরিবহন বন্ধ।কর্মচারীরা তাদের কর্মক্ষেত্রে পৌঁছবেন কি করে?সে ব্যাপারে কোনো নির্দেশিকা নেই।ইতিমধ্যেই বহু ব্যাঙ্ক গাড়ি ভাড়া করে তাদের কর্মচারীদের রোজ শাখায় পাঠাবার চেষ্টা করছে। সরকারী সহযোগিতা নেই,বাজার থেকেই মাস্ক,স্যানিটাইজার কিনতে হয় নিজেদের তহবিল থেকে ।করোনা মোকাবিলায় গঠিত সরকারী তহবিলে সরাসরি দান ছাড়াও এ সময়ে ব্যাঙ্কের এই বাড়তি ব্যায়ভার যে অতিরিক্ত সহযোগিতা দেশের স্বার্থে সেটা কোথাও উল্লেখ থাকে না।স্বীকৃতির প্রশ্নে সবাই চুপ ।নোটবাতিলের মতো অবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্তেও( যেহেতু 99%এর বেশি টাকা পরবর্তীকালে ফিরে এসেছিল) ব্যাঙ্কগুলির আর্থিক ক্ষতি ছাড়াও কর্মচারীদের শারীরিক ধকল কম পোহাতে হয় নি।বিনিময়ে শুকনো সহানুভূতি ছাড়া আর কিছু জোটে না, সেটুকুর জন্যও আবার দিনের পর দিন দর কষাকষি চালাতে হয়।
সরকারী বিভিন্ন ভাতা এই সময় সরাসরি ব্যাঙ্কের অ্যকাউন্টে ঢুকছে, 500 টাকা করে তিনমাসের এককালীন অনুদান জমা হচ্ছে জনধন আমানতে।এই সময় তাদের টাকা তোলার ভীড়।তাছাড়া সরকারের এমন ভাবমূর্তি তৈরী আছে যে প্রয়োজনে নিজের টাকা তোলার উপর নিষেধাজ্ঞা জারী হতে পারে এই আতঙ্কে অনেকে ছুটে এসে তাদের জমা টাকা তুলে নিতে চাইছে ।এসব বিভিন্ন কারনে বাড়তি চাপ এসে পড়ছে শাখাগুলির ঘাড়ে।তাছাড়া যাদের মাসিক বেতন প্রাপ্তিতে কোনো অসুবিধা হচ্ছে না তাদেরও ঋণের কিস্তির বাড়তি সময়সীমার সুবিধা নিলে কিরকম লাভ হতে পারে সে ব্যাপারে হাজার প্রশ্নের ভীড়।
সরকারী অধিকাংশ প্রকল্প রূপায়িত হয় মুলতঃ সরকারী ব্যাঙ্কগুলোর মাধ্যমে কিন্তু সরকার এর জন্য প্রশাসনিক ও আর্থিক কোন দায়ভার নিতে অনিচ্ছুক।সুষ্ঠু পরিষেবা দিতে সব কর্মচারীরাই দায়বদ্ধ( ব্যতিক্রম ব্যাতিরেকে) কিন্তু তাদের কাজ করবার পরিবেশ টুকু দিতে হবে । এত ভীড়ে সামাজিক দূরত্বের নূন্যতম ব্যবধান না রাখতে পারলে লকডাউনের সুবিধা মিলবে কি করে ? প্রান্তিক গ্রাহকেরা প্রয়োজনীয় স্বাস্হ্যবিধি মেনে চলছেন কিনা দেখার দায়িত্ব কার ? এ জিনিষ এবার তো শুধু ব্যাঙ্কের আভ্যন্তরীন সমস্যা নয় দেশের সামগ্রিক প্রয়োজনে প্রশাসন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জন প্রতিনিধিরা এখন ই ব্যবস্হা নিন। যে সমস্ত কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারী কর্মচারীরা নিশ্চিন্তে বাড়িতে থেকে সবেতন লকডাউন (প্রথমে 21 দিন ,তারপর 19 দিন) উপভোগ করছেন তাদের মধ্যে সমর্থ ও ইচ্ছুকদের নিয়ে তালিকা তৈরী করে সপ্তাহে কয়েকদিন ব্যাঙ্কে,বাজারে ভীড় নিয়ন্ত্রন, দুঃস্হদের নিয়মিত খাবার ,ঔষুধ পৌঁছে দেওয়া ও অনান্য কাজে ব্যবহার করা হোক। সত্যিই পুলিশের একার পক্ষেও ধারাবাহিক ভাবে বাড়তি চাপ নেওয়া সম্ভব নয়।নির্দিষ্ট প্রতিষেধক আবিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত লকডাউন এখন চলতেই থাকবে। অত্যধিক পরিশ্রম বা শেষ পরিনতি করোনায় আক্রান্ত হয়ে ব্যাঙ্ক সহ অত্যাবশ্যকীয় দপ্তর যদি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে তখন কিন্তু কেউ নিরুপদ্রবে গৃহবন্দী হয়ে থাকতে পারবেন না।
এ ব্যাপারে ভাবার সময় এসেছে।
@ শ্রীমন্ত ভদ্র