চলে গেলেন ডাঃ বিপ্লব কান্তি দাশগুপ্ত। বাইপাসের এক হাসপাতালে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন তিনি। শনিবার রাত থেকেই আসে অশনিসংকেত। ভেন্টিলেটরও একসময় পরাজয় স্বীকার করে।অবশেষে রাত দেড়টায় সল্টলেক আমরি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মুর্শিদাবাদের প্রাক্তন জোনাল কুষ্ঠরোগ আধিকারিক ছিলেন তিনি। বর্তমানে সহ-স্বাস্থ্য অধিকর্তা (সেন্ট্রাল মেডিক্যাল স্টোর) পদে কর্মরত ছিলেন। প্রায় যতবার স্বাস্থ্যভবনে গিয়েছি নিরন্তর বাক্যালাপ হতো। তার আন্তরিক ব্যবহার সকলকে মুগ্ধ করতো। অজাতশত্রু ছিলেন তিনি। ডায়াবেটিস, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, শ্বাসকষ্ট, উচ্চরক্তচাপজনিত সমস্যায় দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। মাথায় কাপড়ের টুপি, মনখোলা হাসি আর বুকভরা ভালবাসা ছিল তার ইউ. এস.পি। জেলা মুখ্যস্বাস্থ্যাধিকারিকের কার্যালয়ে নীচের ঘরে রাত ন'টা পর্যন্ত আমাদের চলতো জমজমাট আড্ডা। তার ঘরে স্তূপাকৃতি হয়ে থাকতো ফাইল আর জরুরী কাগজপত্র। কাজের ব্যাপারে তার নিষ্ঠা ও দায়বদ্ধতা ছিল প্রশ্নাতীত।
তার প্রশাসক চিকিৎসক জীবন শুরু হয়েছিল মেদিনীপুর জেলায়। উনি ছিলেন কাঁথি হাসপাতালের সুপার। তারপরে এলেন হাওড়া জেলায়। সেখানে তিনি ছিলেন উলুবেড়িয়ার সহ-মুখ্যস্বাস্থ্যাধিকারিক। তারপরে পদোন্নতি হয়ে এলেন মুর্শিদাবাদ জেলায় 'জোনাল লেপ্রসি অফিসার' হয়ে। কিছুদিন বর্ধমান, মালদা। সেখান থেকে আবার পদোন্নতি হল উত্তর দিনাজপুর জেলার মুখ্যস্বাস্থ্যাধিকারিক হিসেবে। সেখান থেকে বদলি হল, স্বাস্থ্যভবনে এ.ডি.এইচ.এস হয়ে এলেন বিপ্লবদা।
রাজ্যে তিনিই প্রথম চিকিৎসক তথা স্বাস্থ্য অধিকর্তা যিনি সম্ভবতঃ করোনার বলি হলেন। তার উপরে গুরুদায়িত্ব ছিল বিভিন্ন জেলায় ওষুধ, যন্ত্রপাতি, পি.পি.ই প্রভৃতি ঠিকমতো পৌঁছে দেওয়া। শেষ ফেসবুক পোস্টগুলি ছিল, ২,৪,৬ ও ৯ ই এপ্রিল। শেষ পোস্টে তিনি যা লিখেছেন তার মর্মার্থ "ঈশ্বর যদি সাড়া না দেন তার মানে তিনি অপেক্ষা করতে বলছেন"। ঈশ্বর ভাল মানুষদের জন্য অপেক্ষা করেন না। তাই বিপ্লবদাকে কাছে টেনে নিলেন। তার বাড়ি এই মুহূর্তে তালাবন্দি। 'ডেথ সার্টিফিকেট' এর জন্য প্রয়োজনীয় আধার কার্ড বাড়িতেই পড়ে আছে। তার স্ত্রীও আমরি হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করি। তার জ্যেষ্ঠপুত্র বর্তমানে ব্যাঙ্গালোরে কর্মরত। তার কনিষ্ঠপুত্র এখন সরকারী কোয়ারান্টাইনে। পুলিশকে এখন হয়তো তার ঘর ভেঙে আধারকার্ড, পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।
তার আকস্মিক, অকালপ্রয়াণে আমরা শোকস্তব্ধ। তার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি। আই.এম.এ বহরমপুর শাখা তার পরিবারকে জানায় গভীর সমবেদনা। ঈশ্বরের কাছে উনার আত্মার শান্তি কামনা করি। উনার স্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি। উনার পরিবার দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরে আসুক। এ হেন সমাজসেবক এর অকাল প্রয়াণে আমরা শোকাহত। আমাদের সমাজের একজন মূল্যবান মানুষকে আমরা হারালাম। ঈশ্বর উনাকে স্বর্গবাসী করুন।
🙏🙏💐💐